শুদ্ধ ইসলাম ও ভালো মানুষ হওয়ার সমস্যা: পাঠকের প্রশ্নের উত্তর

কিছু দিন আগে ‘ঈশ্বরের ভালোবাসা নিঃশর্ত নয় কেন’ এই বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় ‘নাস্তিকেরা ভালো মানুষ হতে পারে কিনা’ এই বিষয়ে আলোচনা করেছি। সেটারই ধারাবাহিকতায় একজন পাঠকের প্রশ্নের আলোকে এই আলোচনা।

পাঠকের প্রশ্ন/মন্তব্যটির এই অংশগুলোর উত্তর আমি দিয়েছি:

“আপনি কি বলতে চাচ্ছেন যে ভালো মানুষ হবার ‘অন্যতম’ শর্ত হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করা??

এখন যদি একজন নাস্তিক ভালো মানুষ তার অস্তিত্ব সংক্রান্ত প্রশ্নে একটা সিদ্ধান্তে আসে, ঠিক যেরকম আমরা আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে সিদ্ধান্তে এসেছি, আপনি কেন তার সামাজিক কার্যকলাপ বিবেচনায় তাকে ভালো মানুষ বলবেন না?

সে ‘আমাদের’ সৃষ্টিকর্তার সংজ্ঞায় একমত নয় বলে? নাকি যতক্ষণ না পর্যন্ত সে ‘শান্তির ধর্ম’ ইসলামে না আসবে, ততক্ষন আপনি বলে যাবেন– ‘এখনো আপনার অস্তিত্বের প্রশ্নগুলো সলভ করতে পারেননি, সুতরাং আপনি পরিপূর্ণ ভালো মানুষ নন।’

মজার ব্যাপার হলো, কেউ যদি গবেষণা করে হিন্দু ধর্মকে যৌক্তিক মনে করে, তখন কি তাকে পরিপূর্ণ ভালো মানুষ বলবেন?

আসলে বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ আস্তিক সৃষ্টিকর্তার সংজ্ঞা নিয়ে চিন্তা করে না। তারা চিন্তাশীল নয়, ধর্মান্ধ; মোল্লা-হুজুরদের কাছ থেকে যা শুনে ও পড়ে, তাই বিশ্বাস করে।”

এই ভিডিও বক্তব্যটিতে আমি দেখিয়েছি, কোনো বিষয়ের বুঝজ্ঞান তথা ইন্টারপ্রিটেশনে মতদ্বৈততা থাকা মানে এই নয় যে, এই রকম কোনো বিষয় বা জিনিসই নাই। বরং একটা গতিশীল আদর্শের বৈশিষ্ট্য হলো এটি যুগের অগ্রগতির সাথে সাথে অগ্রগতি লাভ করবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে একে নতুন করে বুঝা যাবে। নানা ধরনের ব্যক্তি, সমাজ ও সংস্কৃতি এর সাথে এডজাস্ট করে নিতে পারবে।

এর আলোকে আমি দেখিয়েছি– ইসলাম বলতে সাদামাটাভাবে আমরা যেটা বুঝি, তা-ই শুদ্ধ ইসলাম। ইসলাম একটাই। এর আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের মধ্যে মতদ্বৈততা আছে। থাকাটাই স্বাভাবিক ও যুক্তিসংগত। তবে, এই মতদ্বৈততার একটা সীমানা আছে। কোনো ইসলামই আল্লাহর এককত্ব, রেসালতের অপরিহার্যতা অস্বীকার করে না। কোনো ইসলামই মুহাম্মদের (সা) আখেরী নবী হওয়াটাকে অস্বীকার করে না। কোনো ইসলামেই ইসলামের স্তম্ভ চারটি বা ছয়টি নয়; পাঁচটি। কোরআনের অথেনটিসিটিকে কোনো মুসলমানই অস্বীকার করে না। হাদীসের প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করে কেউ মুসলমান থাকতে পারে না।

ইসলামের multiplicity of understanding-এর কারণে যদি সহী ইসলাম বলে কিছু না থাকে, তাহলে বলতে হবে, জগতে সঠিক বলে কিছু নাই বা হতে পারে না। কারণ, প্রত্যেকটা নলেজই কোনো না কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জ্ঞান। কারো না কারো আন্ডারস্ট্যান্ডিং। মার্ক্সিজমের কি একক আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে? নাস্তিকতার কি একক আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে? সব নাস্তিকেরা কি একইভাবে নাস্তিক? জাতীয়তাবাদ কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতা বা উদারতাবাদ বা গণতন্ত্রের কি একক কোনো সংজ্ঞা, বুঝজ্ঞান ও ব্যাখ্যা আছে?

ভিডিও বক্তব্যটিতে দেখানো হয়েছে, ইসলামে নিছক রিচুয়্যাল বা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানকে ততটা গুরুত্ব দেয়া হয়নি। বরং যারা বুঝে-শুনে ও সামগ্রিক আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের ভিত্তিতে সমন্বিতভাবে ধর্ম ও আদর্শকে মেনে চলে, তারাই ভালো মানুষ। অন্ধবিশ্বাস ও লৌকিক ধার্মিকতা কখনোই ভালো হতে পারে না। অন্ধবিশ্বাসীদের চেয়ে বরং বুঝে-শুনে যারা বিভ্রান্ত, তারা ভালো। কারণ, তারা তো একটা জার্নির মধ্যে আছে। কাণ্ডজ্ঞান ও বুদ্ধির যথাযথ চর্চা করলে, আশা করা যায়, তারা সঠিক পথে ফিরে আসবে।

এতে আমি একটা কোরআনের আয়াত ও একটা হাদীসের সূত্রে দেখিয়েছি, ইসলামে মানুষের একান্ত ব্যক্তিসত্তার অস্তিত্ব ও আত্মস্বার্থগত বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই, ব্যক্তি আগে, না সমাজ আগে, এ ধরনের কম্যুনিস্টিক প্রশ্নগুলোই ভুল। ক্রমসোপানমূলকভাবে (hierarchically) ব্যক্তির পরে পরিবার, এরপর সমাজ, এরপর রাষ্ট্র, এরপর বিশ্ব, এরপর সমগ্র বিশ্বব্যবস্থা– ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের গঠন ও অবস্থানটা এ রকম।

মূল আলোচনায় আমি যে ছয়টি পয়েন্ট দিয়ে আলোচনাটা সাজিয়েছি, এখানে সেগুলোকেই খানিকটা ইলাবোরেইট করা হয়েছে। যারা নানা অসুবিধার কারণে ভিডিওটা দেখতে পারবেন না, তাদের জন্য এই সারসংক্ষেপ। আমার অন্যান্য আলোচনার মতো এখানেও আমি ঈশ্বর ও প্রকৃতির মতো ‘ধারণাগুলোর’ ক্লারিফিকেশান দিয়েছি। দেখিয়েছি, নাস্তিকদের প্রকৃতি বিশ্বাস আসলে ঈশ্বর বিশ্বাসেরই একটা অসম্পূর্ণ ও বিকৃত রূপ।

পুরো আলোচনায় এভাবে নানা এঙ্গেলে সংশ্লিষ্ট নানাবিধ বিষয়গুলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই ভিডিওটা বুঝার জন্য পূর্ববর্তী ভিডিওগুলো দেখা জরুরি। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী আলোচনার বিষয়বস্তু হবে– হাদীসে কেন তকদীর নিয়ে আলোচনা করাকে নিষেধ করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

আক্কাস আলী: (I am writing in English because it’s easier for me)

Dear Sir, Thank you for your video response. I have watched your video attentively, and found that my opinions are quite different than yours. I would like to share my opinions as briefly as possible here. But first let me list the assumptions and opinions you have shared in the video:

a) God will consider all Atheists and followers of other religions as bad people, even if some of them have done an honest research with the best possible methods available to them.

b) Ontological arguments should be one of the major bases of research for atheists and agnostic atheists. And, you are certain that it will lead them to monotheism (particularly Islam).

c) Beliefs in Islam can have different interpretations except some core things in Quran and hadiths.

d) Since God is absolute in nature, questioning what he could and couldn’t do is categorically wrong.

e) Humans have cognitive uniformity. In other words, same IQ.

f) Allah will act as a binary thinker like YES or NO MCQ questions, where no matter what, non-believers will fail despite their good earthly activities.

Sir, I am a progressive Maliki Muslim, and I always try to focus on reason and rationality when it comes to religious beliefs. To me, the concept, nature, characteristics and decisions of a God have to always pass the test of reason. Otherwise, I have the option of more research, or reject that particular belief. That being said, I disagree with all of the points you have mentioned in your video except the point b and c. I partially agree with you on those two points. But, for the sake of staying relevant to the topic, I will only focus on the point a and f.

Now, it really doesn’t make sense when we define God as someone who is a binary thinker. An absolute entity will understand the complexity of human understandings. He will know the intentions, integrity, environment and resources a human had before taking decisions. There are some Muslim thinkers, for example Imam Ghazali, said that those who are exposed to a distorted image of Islam, they will not be held accountable on the day of judgement for rejecting/leaving it. I completely agree with his view. It’s more logical to believe that Allah will judge every human according to their journey in this world. A universal MCQ question like- “Did you believe me? Yes or No? If no, then you are a bad person and a sinner”- is a silly argument to begin with. A God knowing the human perspectives and limitations cannot be self-centred and sadist like that. Actually, it’s a Christian belief that the only way to heaven is believing in Jesus.

The point I am trying to make here is that People doesn’t become bad in the eyes of God only because of their atheism. Moreover, Allah could only “logically” punish people if he had made his existence obvious to the world. But that is surely not the case. End of the day, existence of a God is still a belief, and ontological arguments are not enough to convert that into a fact.

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: যুক্তি-বুদ্ধির সক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা, ঐশী অজ্ঞেয়বাদ, তকদির বিশ্বাস ও শেরেকী-কুফরির স্বরূপ বিশ্লেষণ

পোস্টটির ফেসবুক লিংক

আপনার মন্তব্য/প্রশ্ন লিখুন

ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।

*