নাস্তিকতার পক্ষে বিজ্ঞানবাদীদের স্মার্ট অ্যাপ্রোচ নিয়ে এক তরুণের প্রশ্ন

[কথা বলতে দিতে হবে। চাই, প্রশ্ন করার অধিকার। এই ধরনের শ্লোগান তোলার পরিণতিতে তরুণদের কাছে আমার কী অবস্থা হইছে দেখেন! পড়তে পড়তে হয়রান হয়ে যাবেন। তবে শেষ পর্যন্ত মজা পাবেন। নিশ্চিত।

আজকালকার পোলাপাইন কতো অগ্রসর চিন্তার, বুঝেন

এক ছেলে। ঢাকায় থাকে। ইন্টার পরীক্ষার্থী। কোত্থেকে যেন আমার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে আমারে ফোন দিছে। বললো, ওর প্রশ্ন আছে। আমার সাথে সে কথা বলতে চায়। যদি আমার সময় হয়। তখন আমি একটা পারিবারিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলাম। পরে ফ্রি হয়ে তাকে কলব্যাক করি। নানা বিষয়ে সে আমার সাথে প্রায় পৌনে দুঘণ্টা কথা বলেছে, সব সমকালীন অতিগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে।

রীতিমতো দুপাশে খাতা কলম নিয়ে দুই জেনারেশানের দুইজনের ভয়েস ওভার কনফারেন্স বা ফ্রিস্টাইল বাহা। আলাপটা ওর পারমিশন নিয়ে রেকর্ড করেছি। সেই অডিওটা আমার সহকারীরা ইতোমধ্যে আমাকে ট্রান্সক্রিপ্ট করে দিছে। এফোর কাগজে সতের পৃষ্ঠা! এডিট করে আপনাদেরকে পড়তে দিবো, ইনশাআল্লাহ। সেই ছেলে আজকে আবার ইনবক্সে আমাকে এনগেইজ করছে। এইমাত্র কোনোমতে ওর প্রশ্নবাণ হতে রিট্রিট করে এসেছি।

নিচের এই [আনএডিটেড] বাক্যালাপগুলো পড়লে বুঝতে পারবেন, যুগের হাওয়া বদলাইছে। ধমকাইয়া পোলাপাইনদের এখন আর আগের মতো ভালো বানানো যাবে না। যাদের কথায় যুক্তি নাই, তারা ক্রমে সমাজের মূলধারা হতে অপসৃত হবেন। এখন ছোট একটা বাচ্চাকেও গণ্ডিবদ্ধ করে রেখে নৈতিক বানাতে পারবেন না। এখনকার আবহে নৈতিকতা গড়ার পদ্ধতি হতে হবে যৌক্তিক ও অন্তর্গত। intrinsicচাপিয়ে দেয়ার যুগ শেষ।

ভয় নাই। এই খোলামেলা পরিবেশে আদর্শবিশেষের হারিয়ে যাওয়ার শংকা নাই। যদি তা হয় কুপমণ্ডুকতামুক্ত। সত্য সর্বদা যুক্তি-বুদ্ধির অনুকূলে থাকে। কী বলেন?]

*****

প্রশ্নকারী: “স্যার একটা প্রশ্ন করতে পারি?”

আমি: শিউর। তোমার আগের প্রশ্নটার উত্তর দেয়া হয় নাই। ইনফিনিটির ওপরে।

প্রশ্নকারী: “জি স্যার। যখন সময় হবে উত্তর দিবেন। আমার আরো একটা প্রশ্ন, আমরা বাস্তবতা বলে যা বুঝি এই সব কিছুই কি আদতে বাস্তব? যেমন এই যে আমি আপনার সাথে কমিউনিকেট করছি। এইটা কি বাস্তব? আমরা যখন ঘুমাই, স্বপ্ন দেখি সেখানেও যেমন আমি কোনো কিছু স্পর্শ করতে পারি, ফিল করতে পারি, ভয় পাই, ভালোবাসি, এক কথায় রিয়েল লাইফ বলতে যা বুঝি আর স্বপ্ন এই দুয়ের মাঝে আমি কোনো পার্থক্য পাই না। কেন যেন মনে হয় এমন তো হতে পারে এই যে জগতে আছি এইটাও কোন স্বপ্ন। আমি আদতে অন্য কোন জগতে আছি?”

আমি: হ্যাঁ, বাস্তব। ontologically। অন্টলজি নিয়ে তোমার সাথে কথা বলেছিলাম। সহজভাবে বললে, সব মিথ্যা হতে পারে না, যদি সত্য নামক কিছু আদৌ না থাকে। হতে পারে, সত্য আছে এলসহয়্যার অর ওভার দেয়ার। তো, সব মিথ্যা– এ জাতীয় ক্লেইমগুলো স্ববিরোধী। সব মিথ্যার জগতে কোনো কিছু আদতে ‘মিথ্যা’ হলো কীভাবে, যদি ‘সত্য’ আদৌ না থাকে?

প্রশ্নকারী: “আমি দাবি করছি না সব মিথ্যা। কারণ স্বপ্নটা দেখার জন্যও তো একজনকে থাকতে হবে। আর যে আছে সে অবশ্যই স্বপ্নের বাহিরের বাস্তবতা। বা সত্য যাই বলি। কিন্তু আমরা এটা কীভাবে দাবি করতে পারি যে আমরা স্বপ্নের ভেতর নই?”

আমি: সব মিথ্যার জগতে ‘সত্য’ থাকার আদৌ কোনো সম্ভাবনা নাই। সে ক্ষেত্রে অর্থাৎ সত্যের শতভাগ অনুপস্থিতিতে কোনো কিছু আদৌ ‘মিথ্যা’ হতে পারে না। কারণ, সব মিথ্যার জগতে কোনো কিছুকে আলাদা করে ‘মিথ্যা’ বলার অবকাশ কোথায়? এটি যে কোনো বিষয়েই প্রযোজ্য। তোমার উত্থাপিত বাস্তব-অবাস্তব এর ক্ষেত্রেও তাই। আগের মন্তব্যের শেষ বাক্যটার এটি সংশোধন বা ক্লারিফিকেশন।

প্রশ্নকারী: “স্যার এখানে জগত বলতে আমরা যা দেখতে পাই বা উপলব্ধি করতে পারি আপনি কি তাই বুঝাচ্ছেন?”

আমি: ‘আমরা এটা কীভাবে দাবি করতে পারি যে আমরা স্বপ্নের ভেতর নই?” তোমার এই প্রশ্নের উত্তর হলো, স্বপ্নের ভিতরে থাকাবস্থায় স্বপ্নকে স্বপ্ন মনে হবে না। বাস্তব মনে হবে। তো, যে স্বপ্নে মানুষ স্বপ্ন দেখে, তা অর্থাৎ সেই স্বপ্ন আসলে স্বপ্ন নয়। বরং বাস্তব। Inception সিনেমাতে দেখায়, স্বপ্নের ভিতরেও স্বপ্ন হতে পারে। এভাবে কয়েক স্তরের স্বপ্ন। সেই সিনামার কাহিনীকে যদি আমরা সিরিয়াসলি বিবেচনা করি, তাহলেও দেখা যায় গভীরতর স্তরের স্বপ্নের তুলনায় ইনিশিয়াল স্বপ্ন আসলে বাস্তব। মোট কথা হলো স্বপ্ন, স্বপ্ন হতে হলে কোথাও না কোথাও বাস্তবতা থাকতে হবে। এবং সেই বাস্তবতার মধ্যে তারা থাকবে যারা স্বপ্ন দেখবে বা দেখতে পারে। নিজেদেরকে সিমিউলেইটেড মনে করা বা নিজেদের সিমিউলেইটেড হওয়ার আশংকায় থাকাটাই প্রমাণ করে আমরা আদতে বাস্তবেই আছি।

প্রশ্নকারী: “তার মানে তো এই দাঁড়ালো যে এ কথা আমরা দাবি করতে পারি না যে আমরা স্বপ্নের ভেতর নই। তবে এটা নিশ্চিত যে স্বপ্ন দেখতে হলে আমাদের বাস্তব অস্তিত্ব থাকাই লাগবে তা সে যে অবস্থাতেই হোক। অর্থাৎ যেমন আমরা স্বপ্নটাকে অস্বীকার করতে পারি না তেমনি বাস্তবতাকেও।”

আমি: হ্যাঁ, এবসলিউটলি রিয়েল হতে হলে সেই সত্তাকে সব দিক থেকে পরম বা এবসলিউট হতে হবে। যেহেতু আমরা সে ধরনের ঈশ্বরসুলভ এবসলিউট নই, তাই ঈশ্বর ভিন্ন অপর কোনো সত্তা স্বয়ং ও সতত পরম বাস্তব হতে পারে না।

প্রশ্নকারী: “জ্বি স্যার, এই বিষয়টাই আমার মাথায় এসেছিল। স্রষ্টা বাদে কোনো কিছুই রিয়েল হতে পারে না। যেমন– যদি আমরা আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে একটা পাথরের টুকরোকে দাবি করি স্রষ্টার চোখেও এটা একটা জড় বস্তু বা পদার্থ হওয়া উচিত। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়াবে যখন স্রষ্টা ছাড়া কিছুই ছিল না তখন স্রষ্টা এই পদার্থ স্থাপন করার জন্য তিনি ভিন্ন অন্য স্পেস কোথায় পেলেন। এটা একমাত্র তখনি সম্ভব যখন তিনি তার ইচ্ছাশক্তিকে কাল্পনিকভাবে বাস্তবায়ন করবেন। যেমন– আমি ঘুমের ভেতর অন্য একটা ডাইমেনশনে ঠিকই পৌছাই কিন্তু তার জন্য আলাদা স্পেসের প্রয়োজন পড়ে না। এটা আমার ধারণা। হতে পারে স্রষ্টা জগতকে এভাবেই গড়েছেন।”

আমি: স্রষ্টা মানে আল্লাহ কীভাবে জগত সৃষ্টি করেছেন তা তাঁর খাস বিষয়। আমাদের পক্ষে এ নিয়ে আন্দাজ অনুমান করা বৃথা। তাঁর সাথে আমাদের অন্টলজিকেল পার্থক্যের কারণে। আমাদের জন্য বাস্তব আর স্বপ্নের পার্থক্য ও ব্যাপার-স্যাপার থেকে স্রষ্টা কীভাবে জগতের অস্তিত্ব আনলেন তা তুলনা করতে যাওয়া, স্পষ্টতই একটা category mistake. anyway, I am surprised to see your level of depth in thinking. mashaAllah. may Allah guide you in logical thinking.

প্রশ্নকারী: “জ্বি, স্যার ঠিক বলেছেন। আমি তো ব্যাপারটাকে শুধুমাত্র আমার দিক থেকে চিন্তা করেছি। প্রকৃত সত্য সম্পর্কে স্রষ্টাই একমাত্র জানেন। আমার জন্য বেশি বেশি দুয়া করবেন স্যার।”

আমি: আমি চিন্তা না করার জন্য বলছি না। তুমি জানো, ‘যুক্তির বাইরে কিছু নয়। বুদ্ধির অনুকূলে সর্বদা।’ – আমি বিশ্বাস করি এই নীতিতে। তাই, যুক্তি বলে, সত্তাগতভাবে, বলতে পারো শারীরিকভাবে যারা স্বতন্ত্র তারা কীভাবে পরস্পরের কোনো কিছুকে সঠিকভাবে বুঝতে পারবে? স্রষ্টা এবং সৃষ্টি যেহেতু সত্তাগতভাবে আলাদা তাই সৃষ্টির পক্ষে স্রষ্টা সৃষ্টি প্রক্রিয়া সঠিকভাবে বুঝতে বা জানতে পারা অসম্ভব। যতটুকু পরম সত্তার পক্ষ থেকে পার্টিকুলার সত্তাকে জানতে বা বুঝতে দেয়া হয় ততটুকুই শুধু তারা বুঝতে বা জানতে পারে। অবভিয়াস অর্থে নিজের বাস্তব সীমাবদ্ধতা ও অজ্ঞতাকে স্বীকার করাই যুক্তি-বুদ্ধির দাবি। স্যার, স্রষ্টা এসব আদবসূচক এলিমেন্টকে পাশে সরিয়ে রেখে for God’s sake or for the sake of your personal integrity, বলো তো আমি কি ঠিক বলেছি? অথবা, আমার কথার মধ্যে কোনো অসংগতি আছে কি?

প্রশ্নকারী: “জি স্যার। আপনার সাথে এইসব বিষয়গুলো শেয়ার করতে পেরে ভেতরে জমে থাকা প্রশ্নগুলোর বোঝা থেকে মুক্তি পাই। এতদিন মনে হতো প্রশ্নের ভারে নুয়ে পড়ছি। আমার মতো করে আমার আশেপাশে চিন্তা করে এমন লোক নেই বললেই চলে। ফলে ব্যাপারগুলো শেয়ার করতে পারি না। আবার কেউ কেউ আছে বিষয়গুলো জানে, কিন্তু চিন্তা করতে পছন্দ করে না। অনেকের দাবি এইসব না ভেবে মাথা না খুইয়ে কোনো রকম লাইফ লিড করতে পারাটাই যেন স্বস্তিতে বেঁচে যাওয়া। কিন্তু আমি কেন জানি এইসব ব্যাপার, প্রশ্ন আর চিন্তাগুলো থেকে এড়িয়ে যেতে পারি না। আমার মেনে নিতে কষ্ট হয় এইসব থট মানুষ কীভাবে এড়িয়ে যেতে পারে। কীভাবে পারে মানুষ তার শেকড় বা রুট লেভেল ভুলে যেতে। নিজের অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তা করাটা আমার কাছে মৌলিক চিন্তাগুলোর একটি মনে হয়।”

আমি: চিন্তা না থাকা জীবন না থাকারই প্রমাণ। চিন্তা ছাড়া যাদের জীবন, তারা জীবন্মৃত। অর্থাৎ তারা বাহ্যত জীবিত থাকলেও তাদের আত্মা মৃত। তারা পশুদের মতো খেয়ে পরে বেঁচে থাকা বিগত মানুষ। আর হ্যাঁ, তুমি জানো কি না জানি না, তুমি এতক্ষণ যে আর্গুমেন্টটা করলা তা আসলে অন্যতম atheistic argument। সরাসরি স্রষ্টা বা ঈশ্বর নাই, এটি দাবি বা প্রমাণ করতে না পেরে তারা ঈশ্বরকে খেলনা নিয়ে অর্থহীন খেলায় মেতে থাকা ‘বিরাট শিশু’ টাইপের অবুঝ ও অপ্রাসঙ্গিক সত্তা মনে করে। তাদের দৃষ্টিতে জগত হলো ঈশ্বরের লীলা খেলা। তাই জগতের কোনো প্রকৃত তাৎপর্য বা মিনিং নাই।

নাস্তিকদের আরো একটা প্রাসংগিক যুক্তি হলো, কোনো অধিকতর বুদ্ধিসম্পন্ন এলিয়েন সিভিলাইজেশান কর্তৃক পৃথিবীকেন্দ্রিক এই জগতের মায়া বা simulation তৈরি করা হয়েছে। এবং ঈশ্বরের ধারণা বা কল্পনার মতো সেই এলিয়েনরা এ জগতের বাহির হতে এখানকার সবকিছুকে পরিচালনা করছেন। পুতুল নাচের খেলার মতো। জিম ক্যরির এ ধরনের একটা সিনেমা আছে The Truman Show নামে। নাস্তিকদের এই simulation যুক্তিটাও নিতান্ত খেলো যুক্তি। তারা এই জগতের বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করতে না পেরে simulation of this world থিওরি নামক কষ্টকল্পনায় নিয়োজিত হয়। ধরে নিলাম, এ জগত নিতান্তই মায়া বা সিমুউলেশন। তাহলে ontologically বা metaphysically এই ‘মায়া’টাও মায়া হিসাবে বাস্তব। যেমন করে আমার ছায়াটা ছায়া হিসাবে বাস্তব। অর্থাৎ আমারই ছায়া।

প্রশ্নকারী: “এলিয়েনের কথা শুনে মনে পড়লো, আইনিস্টাইনকে নিয়ে বানানো একটা ডকুমেন্টারিতে তাকে নিয়ে গবেষণা করা কিছু সাইন্টিস্ট তার থট এক্সপিরিমেন্টের জন্য এই টাইপ কোন এলিয়েনদের কল্পনা করেছিলেন। তাদের অনুমান ছিল যে হতে পারে কোন এলিয়েন আছে যারা সময়ে সময়ে আইনিস্টাইনের মত কিছু জিনিয়াস পাঠিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে নেয়।তারাই নিয়ন্ত্রন করে। ডকুমেন্টারিটা দেখে একটু হাসিই পেয়েছিল।এরা এলিয়েনকে বিলিভ করবে কিন্তু স্রষ্টাকে না।”

আমি: ছায়ার যতটুকু বাস্তবতা থাকতে হয় তা নিয়ে তা ছায়া হিসাবে বাস্তব। তাহলে দেখা যাচ্ছে, বাস্তব্তা হলো এমন এক ভূত যা তাড়ানো অসম্ভব। আমি বলতে চাচ্ছি, বাস্তবতা না থাকাও এমনকি এক ধরনের যৌক্তিক বাস্তবতা। তাই, ‘সব কিছু অবাস্তব’ – এই কথাটাকে রবীন্দ্রনাথের ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ গল্পে বর্ণিত ক্ষ্যাপা পাগলার ‘সব ঝুট হ্যায়, সব ঝুট হ্যায়’ ডায়ালগের মতো কাব্যিক অর্থে না নিয়ে লজিক্যালি-সিরিয়াসলি নিলে তা শেষ পর্যন্ত ‘আমি নাই’, ‘আমি নাই’ টাইপের স্ববিরোধী প্রলাপের মতো হয়ে দাঁড়াবে। কেননা, আমি যদি নাই-ই থাকি তাহলে ‘আমি নাই’ কথাটা বলে কে?

begging the question fallacy বলে একটা কথা তোমাকে বলেছিলাম। যার মানে হলো, কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে প্রশ্নেরই একটা অংশকে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে উত্তর হিসাবে হাজির করা। এখানকার মানব সভ্যতার ব্যাখ্যায় এলিয়েন প্রসংগ নিয়ে আসলে কেউ তো প্রশ্ন করতে পারে, “তাহলে বলুন, এলিয়েনরা কোত্থেকে এসছে?” এ ধরনের এডলোসেন্ট প্রশ্নের কী উত্তর দিবে এসব বিজ্ঞানবাদীরা?

প্রশ্নকারী: “রুহ নিয়ে একবার ন্যাপক চিন্তায় পরে গিয়েছিলাম। এ নিয়ে জানাশোনা তেমন কোনো বই পাচ্ছিলাম না। যেহেতু আরো ছোট অবস্থায় তখন ইংরেজীটাও ভালো বুঝতাম না তাই বাহিরের রাইটারদের বই আছে কিনা আগ্রহ দেখাইনি। একদিন ভাবতে ভাবতে চমকে গেলাম। আমি নিজের ভেতর রুহকে খুঁজছি। অথচ অবাক করার বিষয় যে খুঁজছে সেইতো রুহ। রুহ কি তাহলে নিজেই নিজেকে খুঁজছে? তাহলে দাঁড়ালো রুহ নিজেকে নিজেই চিনতে পারলো না। আমি নাই আমি নাই কথাটা সেই কথাকেই মনে করিয়ে দিল। আমি নাই আমি নাই। অথচ যে নাই সেই দাবি করছে আমি নাই। তাহলে কে নাই?”

আমি: তারমানে, আমি নাই, বলার জন্য হলেও আমি অন্তত কিছুটা হলেও ‘আছি’। একেবারেই, মানে শতভাগ না থাকা কেউ কীভাবে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ করতে পারে? এই সন্দেহ প্রক্রিয়াটাই প্রমাণ করে সন্দেহ ক্রিয়ার কর্তা হিসাবে কেউ না কেউ আছে। এই কেউ আর কেউ নয়, স্বয়ং সে নিজে। Descartes এটাকে বলেছেন, আমি চিন্তা করি। অতএব আমি আছি। এই কথার জন্য তাকে আধুনিক পাশ্চাত্য দর্শনের জনক বলা হয়। তুমি জানোই না তুমি ফিলোসফির অন্যতম সিরিয়াস বিষয় সমকালীন জ্ঞানতত্ত্বের একটা প্রধান বিষয় BIV argument নিয়ে এতক্ষণ আমার সাথে ইন্টারেক্ট করেছো। বিআইভি আর্গুমেন্ট একটা skeptical আর্গুমেন্ট। ভালো থাকো। পরে একদিন কথা হবে।

প্রশ্নকারী: “তাই নাকি স্যার। আচ্ছা ইনশাল্লাহ স্যার। ভালো থাকবেন আসসালামুয়ালাইকুম।”

আমি: dorshon.com এ গিয়ে সমকালীন জ্ঞানতত্ত্ব আর নলেজ এন্ড রিয়েলিটি কোর্সের কনটেন্টগুলো চেক করে দেখতে পারে। গুগুলে সার্চ দিলেও পাবা।

এই নাছোড়বান্দা টাইপের তরুণ প্রশ্নকারী হতে আজকের মতো পাওয়া ‘ফাইনাল রিলিজ অর্ডার’ (!): “আচ্ছা স্যার”।

পোস্টটির ফেসবুক লিংক

আপনার মন্তব্য/প্রশ্ন লিখুন

ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।

*