যুক্তি পছন্দ নয়? কী করবেন, যুক্তি থেকে তো মুক্তি নাই…

এক যুক্তি দিয়ে আরেক যুক্তিকে খণ্ডন করা যায়। কিন্তু, বিষয় যা-ই হোক না কেন, যুক্তির অপরিহার্যতাকে আপনি কোনোভাবেই খণ্ডন করতে পারবেন না। এমনকি, যদি তা পারেনও, তাতে করেও যুক্তি প্রক্রিয়ার কোনো অসুবিধা নাই। কেননা, যুক্তির ‘অসারতা’ প্রমাণের জন্য আপনি তো যুক্তিকেই ব্যবহার করলেন! সেজন্যই ‘নাস্তিকতা অধ্যয়ন কেন্দ্র’র শ্লোগান ঠিক করেছি– ‘যুক্তির বাইরে কিছু নয়, বুদ্ধির অনুকূলে সর্বদা’।

ব্যাপারটা মজার কিংবা মর্মান্তিক, যুক্তি শুধু উন্নততর যুক্তি দিয়েই খণ্ডিত হতে পারে।

আমরা জানি, সত্য আর মিথ্যার সম্পর্ক হলো সমতলধর্মী বা horizontal। হয়তো সত্য হবে, না হয় মিথ্যা হবে। এরা পরস্পরকে রিপ্লেস করে। অন্যদিকে উত্থাপিত যুক্তির সাথে পাল্টা যুক্তির সম্পর্ক হলো ক্রমসোপানমূলক বা hierarchical। একই সাথে সব যুক্তি বিদ্যমান থাকতে পারে। ব্যাপার হলো, সব যুক্তি মানসম্মত বা ভালো নয়। কিছু যুক্তি নিম্নমানের। কিছু যুক্তি উচ্চমানের। এনটায়ার লজিকে তাই সত্য-মিথ্যা না বলে সব সময়ে বলা হয়, বৈধ যুক্তি বা অবৈধ যুক্তি, ভালো যুক্তি অথবা খারাপ যুক্তি, শক্তিশালী যুক্তি কিংবা দুর্বল যুক্তি।

“ঈশ্বরকে কে সৃষ্টি করেছেন?” – কয়েকদিন আগের এই পোস্টে একজন পাঠক আজ মন্তব্য করেছেন, “without logic Allah Is God & Creator of the world.”

উত্তরে আমি লিখেছি: আপনি বলছেন লজিক ছাড়াই আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকর্তা। হ্যাঁ, আপনার কথা একশ ভাগ সঠিক। আল্লাহ তায়ালার কাছে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকর্তা হওয়ার জন্য কোনো মানুষের স্বীকৃতি পাওয়া না পাওয়ার বিষয়টা অর্থহীন ও অপ্রাসঙ্গিক। এটা সত্য।

কিন্তু আল্লাহর দিক থেকে আল্লাহ কেমন হতে পারেন তা নিয়ে আপনি আমি কেন মাথা ঘামাবো? আমরা মূলত নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েই সমস্যাগ্রস্ত ও চিন্তিত। আমাদের মধ্যে চিন্তা আসে, আমরা কোথা থেকে এলাম? এই জগত কোথা থেকে এলো? এই জগতের সাথে আমাদের প্রকৃত ও ন্যায্য সম্পর্ক কী? শুরু কোত্থেকে? এসব কিছুর শেষ কোথায়?

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জন্য আমরা চিন্তিত। আল কোরআন আমাদের এই প্রশ্নগুলোরই এক রকম উত্তর দেয়। যাকে আমরা সংক্ষেপে ইসলাম হিসেবে জানি। তাই তো?

এবার আসেন আল-কোরআনে এসব বিষয়ে কী বলা হয়েছে, কেমন করে বলা হয়েছে, সেদিকে আমরা একটু লক্ষ করি। আমরা দেখি, আল কোরআনের পাতায় পাতায় আল্লাহ তায়ালা নানা বিষয়ে যুক্তির পর যুক্তি দিয়ে গেছেন। আপনি জানেন, কোরআনের অধিকাংশ সূরা ও আয়াত হলো মক্কী যুগের। সেইসব সূরা ও আয়াতসমূহে কী বিষয়ে কী কী বলা হয়েছে? কীভাবে বলা হয়েছে, একটু স্মরণ করেন।

তাহলেই বুঝবেন, ইসলামের সাথে যুক্তির সম্পর্ক কী বা কতটুকু। আমি শুধু আপনাকে এ বিষয়ে চিন্তা করার পথ বাতলে দিলাম। সাথে এতটুকুও মনে রাখবেন– আপনি যখন বলবেন, ‘যুক্তির দরকার নাই’, তখন আপনাকে অথবা যিনি এমনটা বলবেন তাকে কোনো না কোনো যুক্তি দিয়েই বলতে হবে কেন তিনি মনে করছেন, যুক্তির দরকার নাই। তাহলে দিনশেষে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো…?

পোস্টটির ফেসবুক লিংক

আপনার মন্তব্য/প্রশ্ন লিখুন

ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।

*