মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য: নাস্তিকতা, তাদের চর্চিত অশ্লীলতার মতোই পরিত্যাজ্য…!

[সামু ব্লগে ‘নাস্তিকতা, তাদের চর্চিত অশ্লীলতার মতোই পরিত্যাজ্য…!’ শিরোনামে যে পোস্টটি করেছিলাম, সেখানে কৃত বিভিন্ন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই প্রতিমন্তব্যমূলক পোস্ট। উল্লেখ্য, বেশকিছু মন্তব্য পরবর্তীতে মন্তব্যকারীরা মুছে দিয়েছেন। আর্কাইভে সেগুলোর ব্যাকআপ রয়েছে।]

*****

‘উত্তর’ দিতে দেরি হওয়ায় আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আপনাদের এটি ‘বিশ্বাস’ করে নিতে হবে যে, আমি পোস্ট দেয়ার পর হতে এইমাত্র নেটে বসেছি। পোস্টেই লিখেছিলাম, আমি পোস্ট দিয়ে ঘুমাতে যাচ্ছি। মানছি, হরহামেশা এমনটি করা উচিত নয়। পোস্টে আমি কোনো প্রশ্ন করিনি। তাই ‘উত্তর’গুলোও মন্তব্যাকারে দেয়া হলো –

১নং মন্তব্য:

আসিফ মহিউদ্দীন বলেছেন: নাস্তিকরা ইসলামকে ভয় পায়! কারণ, ইসলাম হলো বর্তমান পৃথিবীর উঠতি মতাদর্শ। =================== [ব্যাঙ্গমূলক ইমোটিকোন]

প্রতিমন্তব্য: নাস্তিকতার সাথে ইসলামের চলমান লড়াইই প্রমাণ করে এটি একটি উঠতি মতাদর্শ। হ্যাঁ, আপনি ভাবতে পারেন, ইসলাম উপযুক্ত বিকল্প নয়। কিন্তু তাতে মতাদর্শগত লড়াইয়ের ময়দানে ইসলামের অবস্থান নাকচ হয় না।

২নং মন্তব্য:

স্তব্ধতাবলেছেন: ইসলামকে শুধু নাস্তিকরা না সবাই ডরায়, যেমনে খড়গ হাতে দৌড়ানি দিতেছেন আর মৃত্যুর ফতোয়া দিতেছেন, না ডরায়াতো উপায় নাই।নাস্তিকদের জীবনতো একটাই।

প্রতিমন্তব্য: সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও চরমপন্থা সব মতাদর্শের অনুসারীদের মধ্যে দেখা যায়। তবে ইসলামী মতাদর্শের অনুসারীরা এমন ধরনের হওয়া উচিত নয়, মানায় না – আপনি যদি এভাবে ভাবেন, তাহলে আপনার মন্তব্যের মূল সুরের সাথে আমি একমত।

৩নং মন্তব্য:

আরিফুর রহমান বলেছেন: সেটাই আসিফ, আমি ভাবছি… চৌদ্দশ বছরের পুরোনো কাসুন্দি ‘উঠতি’ সাইনবোর্ড পায় কি ভাবে!!

প্রতিমন্তব্য: ১৪শ বছরের পুরনো বলে কোনো মতাদর্শকে ‘কাসুন্দি’ টাইটেল দেয়া সমীচীন মনে করি না। আস্তিকতা ও নাস্তিকতা প্রায় সমবয়সী।

৪নং মন্তব্য:

অসম্ভব০০৯ বলেছেন: ‘ইসলাম’, ‘পূর্ণাঙ্গ ইসলাম’, ”তথাকথিত ইসলাম” … একটু বুঝাইবেন ভাই??
কনফিউজড হইয়া গেলাম … আপনিও কি কনফিউজড ??

খামাখা কথা পেচাইবেন না ক্লিয়ার উত্তর দিবেন, নানান হাদিস কোরানও দেখাবেন না ..ওইগুলাও একএকজন একএক ভাবে বলে..আপনার নিজের কি ধারনা সেইটা বলবেন..

প্রতিমন্তব্য: ‘ইসলাম’, ‘পূর্ণাঙ্গ ইসলাম’, ”তথাকথিত ইসলাম” বলতে বোঝানো হয়েছে –

হাদীসে জীবরিলে (যে কোনো হাদীসের মূল গ্রন্থের শুরুতে পাবেন) ইসলামের সংজ্ঞা দেয়া আছে।
পূর্ণাঙ্গ ইসলাম বলতে মুহাম্মদের (সা) পুরো নবুয়তী জীবনে ধাপে ধাপে পূর্ণতাপ্রাপ্ত ইসলামকে বোঝানো হয়েছে।
তথাকথিত ইসলাম বলতে ‘ধর্ম’ অর্থে প্রচলিত বা লোকধর্ম অর্থে প্রচলিত ইসলামকে বোঝানো হয়েছে। ইসলামকে যদি আপনি ধর্ম বলতে চান, তাহলে কমিউনিজমও একটা ধর্ম। অলস্টোনের ‘ফিলোসফি অব ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থের শেষ চ্যাপ্টারের শুরুতে এ সংক্রান্ত বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। বইটি ফিলোসফি অব ল্যাঙ্গুয়েজের একটি পুরনো ও প্রচলিত পাঠ্য।
আপনি টেক্সটের ইন্টারপ্রিটিশনে মতপার্থক্যের বিষয়ে বলেছেন।

টেক্সটের ইন্টারপ্রিটিশন সংক্রান্ত মতপার্থক্য যে কোনো মতাদর্শকেন্দ্রিক মূল লেখার ব্যাপারে প্রযোজ্য। আমরা যখনই কিছু গ্রহণ করি, কোনো না কোনো ব্যক্তির কাছ হতে তা গ্রহণ করি যার নিজস্ব চিন্তা, সংশ্লিষ্ট কথা, লেখা বা ঘটনা উপস্থাপনে প্রভাব রাখে। এর বাইরে আমরা যেতে পারি না। শুধু ইসলাম, কোরআন-হাদীস কেন; এমনকি যে কোনো পত্রিকারও একটি ‘সম্পাদকীয় নীতি’ থাকে যা সেটিতে প্রকাশিত সকল কিছুতে অনুসৃত হয়। তাহলে নিরপেক্ষভাবে বা সঠিকভাবে আমাদের জানার উপায় কী? আসলে ‘সঠিক’ কোনোকিছু জগতে নাই। ‘সঠিক’ হলো তা-ই যা আমরা ‘সঠিক’ বলে গ্রহণ করি। ‘সঠিক’ হিসাবে তা-ই গ্রহণ করি যা ‘সঠিক’ মনে করি। তা-ই ‘সঠিক’ মনে করি, যার পক্ষে যুক্তি ও ‘প্রমাণ’ আছে বলে আমরা মনে করি। ব্যাপারটা সার্কুলার। জ্ঞানের উপরিকাঠামোতে চক্রক-সংজ্ঞা গ্রহণযোগ্য না হলেও জ্ঞানের মৌলকাঠামোতে সবকিছু একক, অনন্য এবং অতি অবশ্যই ‘সার্কুলার’।

৫নং মন্তব্য:

আরিফুর রহমান বলেছেন: মোজাম্মেল ছাহেব, আপনার কথাবার্তা বেশ গোছানো। প্রাক্তন শিবিরের মতো দেখতে হলেও, আপনার মাঝে হালকা জুস আছে বোধ হচ্ছে। আসেন একটু বাতচিত করি। পোস্টের প্রত্যেক্টা সেকশন নিয়ে আমি কিছু কথা বলবো। আপনি উত্তর দেবেন, ঠিক হ্যায়?

প্রতিমন্তব্য: আপনি গালি না দিয়ে ভদ্রভাষায় বলেছেন, খুশী হলাম। বাই দ্য ওয়ে, আমাকে ‘প্রাক্তন শিবিরের মতো দেখতে মনে হওয়ার কারণ বুঝলাম না। আমার মুখে দাঁড়ি আছে! পাক্কা নাস্তিকরাও মাঝে মধ্যে দাঁড়ি রাখেন। আর আমার দাঁড়ি এরচেয়ে বেশি লম্বা হয় না, জেনেটিক্যালি।

৭নং মন্তব্য:

আসিফ মহিউদ্দীন বলেছেন: এ ঘুমাইলে জিহাদ করবো কেডা? তীব্র দিক্কার সেই মুমিন মুচলমানরে যে জিহাদ থুইয়া ঘুমাইতে যায়। নাস্তিকরা তো সব দখলে নিয়া যাইতাছে। লুঙ্গি কাছা দিয়া আহেন তাড়াতাড়ি।

প্রতিমন্তব্য: নাস্তিকতা হচ্ছে একটি অন্যতম চরমপন্থা, যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নেতিবাচক। তাই মনে হয়, গণমাধ্যমে বিশেষ করে, যে নাস্তিকরা সব দখল করে আছে। নাস্তিকতা এক ধরনের বিশ্বাস, যা থাকার দরকার আছে; যেমন করে জগতে মিথ্যা, অন্যায় ও অকল্যাণ থাকার দরকার আছে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের অর্থবহতার জন্য।

৯নং মন্তব্য:

আরিফুর রহমান বলেছেন: … অশ্লীলতা শব্দটার একটা ব্যখ্যা দাবি করছি। এর মানে কী?…

প্রতিমন্তব্য: অশ্লীলতার সংজ্ঞার সাথে এর উদাহরণও প্রাসঙ্গিক। নাস্তিকরা যে ধরনের অশ্লীল শব্দাবলী তাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করেন সেগুলো, সেগুলো মানে – এসবই অশ্লীল। এক কথায় যৌনতাসূচক শব্দকে গালি হিসাবে বোঝানো। শালীনভাবে অশ্লীলতার এরচেয়ে বেশি বিস্তারিত বলা অসম্ভব। ও হ্যাঁ, অশ্লীলতার চূড়ান্ত কোনো মাপকাঠি নাই। কোথাও পড়েছিলাম, কোনো দেশে একটা মামলা হলো এ বিষয়ে – একটি মেয়ে সংক্ষিপ্ত পোশাক পড়ে যাচ্ছিল দুজন পুরুষের সাথে। একজন অপরিচিত সহযাত্রী, অন্যজন তার ভাই। অপরিচিত সহযাত্রী পুরুষটি অভিযোগ করলো, এই মহিলার প্রকাশিত ইত্যাদি ইত্যাদি আমাকে এভাবে এভাবে যৌনভাবে প্রভাবিত করেছে। শুনানীতে মেয়েটির ভাই বললো, কই আমি তো কিছু অনুভব করি নাই। এবার বুঝুন…।

১০নং মন্তব্য:

মনির হাসান বলেছেন: লেখকের খিচ উঠছে। হিট দরকার। …

প্রতিমন্তব্য: এ ধরনের অশালীন মন্তব্য সাধারণত নাস্তিক মনোভাবাপন্নদের শোভা পায়।

১৪নং মন্তব্য:

শাহরিয়ার নাহিদ বলেছেন: নাস্তিকতা নিয়ে লেখক হঠাৎ কি পড়াশুনা করছেন যে এইভাবে খেপে উঠলেন। একটা পরিত্যাজ্য বিষয় হল আপনার প্রিয় পাঠ্য, শুনে খুশী হইলাম।

প্রতিমন্তব্য: যে কোনো মতাদর্শ ‘পরিত্যাজ্য’ বিষয়াদিকেও স্বীয় মূলকাঠামোতে রাখে। কারণ, আমাদের দাঁড়াতে হয় কোনো না কোনো বিপরীতের ভিত্তিতে। মার্ক্সবাদে এন্টি-ডুরিং চর্চা করা হয়, অথচ ডুরিং ‌আসলে কী বলেছেন সেটি সরাসরি ডুরিং হতে পড়ানো হয় না। ইসলামে আবু জেহেল, আবু লাহাব, ফেরাউন, নমরুদ, শয়তান ইত্যাদি প্রসঙ্গও এর উদাহরণ।

১৯নং মন্তব্য:

আব্বু আমার আব্বু বলেছেন: প্রশ্ন ১. সহি নাস্তিক আপ্নে কয় জন পাইছেন? প্রশ্ন ২ . সহি মুসলিম আপ্নে কয় জন পাইছেন?

প্রতিমন্তব্যঃ আসলে জগতে সহি বা খাঁটি বলতে আদৌ কোনো কিছু আছে কিনা, এটি একটি প্রশ্ন। সবকিছুই মাত্রাগত। খাঁটি বা একেবারে ঠিক, নির্ভুল ধ্রুব বলে কিছু যদি থাকে বা থাকা উচিত বলে মনে হয়; তবে ‘ঈশ্বর’ই হতে পারে তেমন কিছু। এটি একটি ঈশ্বরবাদী যুক্তি – আমরা সবকিছুর মধ্যে বা সবকিছুকে ছাপিয়ে বা ছাড়িয়ে কোনো এক আসলকে খুঁজি। এমনকি যদি বলা হয়, কোনো কিছুর ঠিক নাই, তখন অন্তত একটি ‘জিনিস’ ঠিক থাকে এবং সেটি হলো ‘কোনো কিছুর ঠিক নাই’। এ প্রসঙ্গে লায়ার প্যারাডক্স দ্রষ্টব্য।

২১নং মন্তব্য:

পারভেজ আলম বলেছেন: আপনাকে তো যুক্তিবাদী বলেই জানতাম। জ্ঞানতত্ত্ব বিষয়ে তো একেবারে খাটি দর্শনের ভাষায় লেখেন। এই লেখায় তো যুক্তির ছিটেফোটাও খুঁজে পেলাম না। নাস্তিকদের সম্বন্ধে এপিস্টোমলজি তৈরি করেছেন, সে তো ঠুনকো আর নাস্তিক বিষয়ে আস্তিক মনে জনপ্রিয় কিছু ধারণা লিখলেই সত্য হয়ে যাবে না।

প্রতি-মন্তব্য: আপনি আমার এতো কথার মধ্যে যদি কোনো যুক্তি খুঁজে না পান তাহলে নতুন করে কি-ই আর বলবো…! যে কোনো কথা/মন্তব্য কারো না কারো পক্ষে যাবে। এটি অনিবার্য। জগতে একেবারে নতুন কোনো কথা নাই, হতে পারে না। হয়তো ব্যাখ্যা বা সংযোজনের মাধ্যমে নতুন কোনো মাত্রা যোগ করা হয়। যেমন, মার্ক্সের প্রচারিত দ্বান্দ্বিকতার সূত্রগুলো তাঁর শিক্ষক হেগেলের। হেগেলের দ্বান্দ্বিক ভাববাদের ভাববাদকে ফুয়েরবাখের বস্তুবাদ দিয়ে পরিবর্তন করে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ প্রবর্তন করা হয়েছে। ইসলামও তেমনই একেবারে নতুন কোনো বিষয় নয় যে, মুহাম্মদ (সা) সেটি প্রবর্তন করেছেন।

২৪নং মন্তব্য:

ডিস্কো ঘোড়া বলেছেন: আমি সারাদিন ব্লগে পড়ে থাকি এই দাবি করা মানে আপনিও সারাদিন ব্লগে পড়ে থেকে আমাকে ফলো করেন, সো এই ফাও কথা বলে পলাইলেন ক্যান? ঈমানের জোর এমন হাল্কা ক্যান? আপনে আস্তিক নামের কলঙ্ক, এবং আমার সন্দেহ একজন ছুপা নাস্তিক আপনি।

প্রতিমন্তব্য: দিনে-রাতে যে কোনো সময় পোস্ট দিলে, তা যদি ইসলাম বিষয়ক কিছু হয়, কিছু পরিচিত মুখ সাথে সাথে মুখস্ত যুক্তি নিয়ে হাজির হয়; অশালীন ভাষায় মন্তব্য দেয়। তাই অনেকের ধারণা, ডিস্কো ঘোড়া ধরনের আল্ট্রা-সেক্যুলাররা একেকটা অনলাইন গ্রুপ বা টিম। আমি ‘আস্তিক নামের কলঙ্ক’ হলেও অন্তত আস্তিক বটে, তাহলে ছুপা নাস্তিক বলতে কী বোঝানো হয়েছে; বিষয়টি কী – বুঝলাম না। আর ঈমানের জোর বাড়ে-কমে। এটিই স্বাভাবিক। তবে, নাস্তিকদের সাথে যুক্তি দিয়ে মোকাবেলার সময় ঈমান বেড়ে যায় – এটি নিশ্চিত বলতে পারি।

আস্তিকতা-নাস্তিকতা উভয়ই মূলত সমপর্যায়ের বিশ্বাস। উভয়েই মনে করে, তাদের পক্ষে ‘যথেষ্ট যুক্তি ও প্রমাণ’ আছে। তাদের স্ব স্ব এপ্টিচিউডই ডিফাইন করে তারা কোন্ কোন্ যুক্তিকে ‘প্রমাণ’ হিসাবে গ্রহণ করবে তথা বিশ্বাস করবে।

পোস্টটির সামহোয়্যারইন লিংক

আপনার মন্তব্য/প্রশ্ন লিখুন

ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।

*