‘ঈশ্বর সর্বশক্তিমান’ কথাটার তাৎপর্য

omnipotent paradox একটি ছদ্ম-প্যারাডক্স। প্যারাডক্স হলো এমন বিষয়, যা কনক্লুসিভলি সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করা যায় না। A paradoxical statement is a logically counter-balanced proposition। এই দৃষ্টিতে তথাকথিত অমনিপটেন্ট প্যারাডক্স হলো আসলে একটা fallacy বা ভুল কথা, যা বাহ্যত সঠিক মনে হতে পারে।

ঈশ্বর এমন কোনো পাথর তৈরি করতে পারেন কিনা যা তিনি উত্তোলন করতে অক্ষম? এই প্রশ্নের উত্তরে আপনি হ্যাঁ/না যা-ই বলেন না কেন, উভয়ক্ষেত্রেই তা ঈশ্বরের সর্বশক্তিমান হওয়ার দাবিকে খণ্ডন করে। এই হলো অমনিপটেন্ট প্যারাডক্সের মূলকথা।

এবার আসুন আমরা খানিকটা পরখ করে নেই, এই যুক্তি কি ভালো যুক্তি, নাকি কুযুক্তি।

নাস্তিকদের এই যুক্তি একটা কুযুক্তি। কেননা, তা strawman fallacy-র জাজ্জ্বল্যমান উদাহরণ। প্রতিপক্ষের খড়কুটা দিয়ে একটা মূর্তি বানিয়ে সেটাকে ঘুষি দিয়ে কুপোকাত করে কেউ যদি দাবি করে সে তার প্রতিপক্ষকে ডিফিট দিয়েছে তাহলে তা হবে স্ট্রম্যান ফ্যালাসির উদাহরণ। প্রতিপক্ষ কী বলতে চায়, তা কোনো বিকৃতি ছাড়াই বুঝতে হবে। এরপর প্রশ্ন আসবে আপনি সেটাকে মানবেন কিনা।

ধর্মের লোকেরা যখন বলে, ‘ঈশ্বর সর্বশক্তিমান’, তখন এ কথার দ্বারা তারা যুক্তিসংগত যে কোনো ক্ষমতার বিষয়ে ঈশ্বরকে পরম হিসাবে দাবি করে। অর্থাৎ যুক্তিসংগত যে কোনো ক্ষমতার ক্ষেত্রে ঈশ্বর সব ধরনের ক্ষমতার অধিকারী।

ঈশ্বরের ধারণাটাই এসেছে যুক্তির দাবি হিসাবে। আস্তিকদের দৃষ্টিতে, আমাদের অস্তিত্ব সংক্রান্ত মৌলিক প্রশ্নগুলোর একমাত্র যুক্তিসংগত উত্তর হলো ঈশ্বরের অস্তিত্ব ও ক্রিয়াশীলতা। ঈশ্বর যুক্তি ও নিয়মের বাইরে কিছু করেন না। একই সাথে সব যুক্তি ও নিয়মের উৎসও তিনি। তাই ঈশ্বর যুক্তির অধীন কিনা, এই প্রশ্নও অবান্তর।

ঈশ্বর যদি সর্বশক্তিমান হয়ে থাকেন তাহলে তিনি এমন ভারী ও ব্ড় পাথর তৈরি করতে পারেন কিনা, যা তিনি উত্তোলন করতে অক্ষম? – এই প্রশ্নটা একটা ভুল প্রশ্ন। এটি ক্যাটাগরি মিসটেক এবং একটা loaded question।

যেমন, চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত কাউকে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘তুমি কেন চুরি করেছ, বলো’। এই প্রশ্নের উত্তরে সে যা-ই বলুক না কেন, সে চোর সাব্যস্ত হবে। সে যদি চোর না হয়ে থাকে তাহলে এ ধরনের ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশ্নের বিষয়ে তার একমাত্র লজিক্যাল রেসপন্স হবে, প্রশ্নটার ভুল ধরিয়ে দেয়া।

ঈশ্বর সর্বশক্তিমান কথাটাকে ধর্মের লোকেরা আক্ষরিকভাবে mean করে না। বরং তারা এই জগত সৃষ্টি ও পরিচালনার জন্য যে অসীম শক্তির দরকার, ঈশ্বরকে সেই অসীম ক্ষমতার আধার মনে করে।

ঈশ্বর নিজেকে বস্তুগতভাবে প্রকাশ করতে পারেন, এটি অবতারবাদের কথা। ইসলাম এর বিরোধিতা করে। কোরআন-হাদীসে খোদার আকার সংক্রান্ত কথাগুলোকে রূপক অর্থে বর্ণনা করা হয়েছে। নচেৎ মনে করতে হবে, নাউযুবিল্লাহ, খোদা নিজের সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী কথা বলেছেন। সূরা আলে ইমরানের শুরুতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, এই কোরআনে দুই ধরনের কথা আছে। দ্ব্যার্থহীন ও দ্ব্যার্থবোধক। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, দ্ব্যার্থহীন বা মুহকাম আয়াতগুলো হলো কোরআনের ভিত্তি। মুতাশাবেহ আয়াতগুলোর ওপর শুধুমাত্র ঈমান আনতে হবে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত কথা হচ্ছে, সূরা ইখলাসের সেই কথা যাতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, ওয়া লাম ইয়া কুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ। মানে, কোনো কিছুই তাঁর মতো নয়। তিনি অদ্বিতীয়। তাঁর সাথে কোনো কিছুর কোনো তুলনা নাই। তিনি সাদৃশ্যরহিত। অতুলনীয়।

পোস্টটির ফেসবুক লিংক

আপনার মন্তব্য/প্রশ্ন লিখুন

ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।

*