পরিচিতি

‘যুক্তির বাইরে কিছু নয়, বুদ্ধির অনুকূলে সর্বদা’ – ‘নাস্তিকতা অধ্যয়ন কেন্দ্র’ বা Centre for Atheism Studies (CAS)’র এটি হলো শ্লোগান।

বাংলাদেশের সমাজ জীবনে আস্তিকেরা শক্তিশালী হলেও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে নাস্তিকতা ভাবাপন্নরাই হলেন শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি তথা বুদ্ধিবৃত্তির মূলধারা। সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মভীরু জনগণ মোটাদাগে নাস্তিকতার বিষয়ে ভীষণ ক্ষিপ্ত। নাস্তিকদের উপরে সময়ে সময়ে প্রাণঘাতি হামলা এবং ‘নাস্তিক’ কথাটাকে গালির সমতুল্য করে তোলার বিষয়টির প্রতি লক্ষ করলে আমরা এটি বুঝতে পারি। এর বিপরীতে যেখানে তাদের ক্ষমতা আছে সেখানে যে নাস্তিকগণ যথেষ্ট অসহিষ্ণু ও উগ্র তা তৎকালীন শাহবাগকেন্দ্রিক গণজাগরণ মঞ্চের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড ও সেখানে বিদ্যমান পরিবেশ ও পরিস্থিতি হতে আমরা আন্দাজ করতে পারি।

ইউটিউবে যখন নাস্তিকতার পক্ষে প্রাণিবিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স আর আস্তিকতার পক্ষে দার্শনিক উইলিয়াম লেইন ক্রেইগের মাঝখানে পদার্থবিদ মিশিও কাকুকে বক্তৃতা করতে দেখি, তখন কতো না ভালো লাগে। আমাদের দেশে এ ধরনের মুক্তবুদ্ধি চর্চা অসম্ভব। অথচ, এটি হওয়া উচিত।

আস্তিকতা ও নাস্তিকতার চর্চাকে বুদ্ধিবৃত্তির ময়দানে এক সমতলে নিয়ে আসতে চাচ্ছি। তাতে করে, যা সত্য ও যুক্তিতে শক্তিশালী তা আপনাতেই ভেসে উঠবে। যা মিথ্যা ও যুক্তিতে দুর্বল তা আপনাতেই তলিয়ে যাবে। জোর করে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাওয়ার পণ্ডশ্রম আর করা লাগবে না। প্রয়োজন শুধু আলাপ-আলোচনার একটা ধারা তৈরি করা ও তা চালু রাখা।

আমার ফেইসবুক কভার ফটোতে লেখা আছে, ‘কথা বলতে দিতে হবে। চাই, প্রশ্ন করার অধিকার।’ হ্যাঁ, আমি মানুষের কথা বলার অধিকারে বিশ্বাসী। আমরা জানি, (১) প্রশ্ন বা ইস্যুটা যদি হয় মৌলিক, (২) সেখানে যদি থাকে কথা বলার অবাধ স্বাধীনতা এবং (৩) যা কিছু বলা হয় তা যদি সব সময়েই কোনো না কোনো যুক্তির ভিত্তিতে বলা হয় – তাহলে যে কোনো আলোচনা ফিলোসফি হয়ে উঠে।

আমি ফিলোসফির লোক। আমার মতে, এমনকি কারো কোনো কথা বা বিশেষ কোনো প্রশ্ন যদি ভুলও হয়, তবুও তা বলতে দিতে হবে। প্রত্যেকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। অপরপক্ষের বলা শেষ হলে তার কথা বা প্রশ্নের যৌক্তিক অসংগতিটা কোথায় তা আপনি দেখিয়ে দিন। ব্যস, হয়ে গেলো। মনে রাখবেন, যুক্তির ময়দানে যা টিকে না, যা মিথ্যা, তা ধ্বসে পড়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আমি ইসলামপন্থী। ব্যক্তি ও জগতের অস্তিত্ব সম্পর্কিত অধিবিদ্যাগত প্রশ্নগুলোর যে ধরনের জবাব ইসলাম দেয়, তা আমার কাছে সঠিক মনে হয়েছে। তাই আমি মুসলিম। ইসলাম ও দর্শনের মধ্যে আমি কোনো বিরোধ পাই নাই। যারা এই দুটিকে পরষ্পর বিরোধী বা মিউচুয়েলি এক্সক্লুসিভ মনে করেন, তারা এ দুটির কমপক্ষে একটিকে প্রচণ্ডভাবে ভুল বুঝেছেন। অযৌক্তিক এই ঐতিহাসিক ভ্রান্তি ও বিরোধ নিরসনে আমি কাজ করছি।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সহযোগী অধ্যাপক
দর্শন বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মন্তব্য/প্রশ্ন লিখুন

ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।

*